বাতিল হল ২৬ হাজার (২৫,৭৫৩ জন) শিক্ষক- শিক্ষিকার চাকরি! হাহাকার ছড়িয়ে পড়ল নেট দুনিয়ায়। অযোগ্যের সাথে সাথে যোগ্য প্রার্থীদেরও এক নিমেষের মধ্যে শেষ হয়ে গেল চাকরি জীবন। ২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগে এতটা পরিমাণ দুর্নীতি হয়েছে, তা একেবারেই শোধরানোর ঊর্ধ্বে চলে গিয়েছে। তাই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ -এর পক্ষ থেকে পুরো নিয়োগ প্যানেল বাতিল করে দেওয়ার রায় দেওয়া হল। সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ থেকে এসএসসি নিয়োগের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রায় দেওয়া হয়েছে।
২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি, নবম দশম শ্রেণীর শিক্ষক শিক্ষিকা, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগের প্রক্রিয়ায় যে বিপুল পরিমাণে দুর্নীতি হয়েছে -তা এখন সর্বসমক্ষে। চূড়ান্ত জালিয়াতি এবং কারচুপি হয়েছে এই নিয়োগে -জানালো সুপ্রিম কোর্ট। শুধুই যে পুরো নিয়ম প্রক্রিয়াই দুর্নীতি পূর্ণ তাই নয়, এর পাশাপাশি সেই দুর্নীতিকে ধামাচাপা দেওয়ার যে চেষ্টা করা হয়েছে, তা সমস্ত ক্ষমার ঊর্ধ্বে চলে গিয়েছে।
নিয়োগের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত দুর্নীতি:
‘হাইকোর্টের রায় পালটানোর কোনও ব্যাখ্যা খুঁজে পাচ্ছি না’ -এই কথা জানালেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি। এই নিয়োগ প্যানেল বাতিল করতেই হবে। এছাড়া অন্য কোন উপায় নেই বলেই জানানো হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্ট এসএসসি মামলার রায় হিসাবে সমস্ত প্যানেল বাতিল এবং জালিয়াতির মাধ্যমে নিযুক্ত হওয়া কর্মীদের সম্পূর্ণ বেতন ফেরত দেওয়ার রায় ঘোষণা করেছিল। এই রায়ের বিরোধিতা জানিয়েই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে ছিল রাজ্য সরকার। সুপ্রিম কোর্টের তরফেয় মামলার রায়ের কোনরকম পরিবর্তন হয়নি।
কারা এখনও বেতন পাবে?
২০১৬ সালের এই কলঙ্কিত নিয়োগে ভারতীয় সংবিধানের ধারা ১৪ এবং ১৬ সম্পূর্ণভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। যার ফলে ক্ষুন্ন হয়েছে চাকরিপ্রার্থীদের সাধারণ অধিকারগুলি। দুর্নীতির মাধ্যমে যুক্ত হওয়া সকল এসএসসি কর্মীর চাকরি বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তবে যে কর্মীরা অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হননি, তাদের সম্পূর্ণ নিয়োগ সময়কালের বেতন ফেরত দিতে হবে না। কিন্তু বাতিল হবে যোগ্য এবং অযোগ্য সকল কর্মীর চাকরি। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশে ২৫,৭৫৩ জন সরকারি বিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত কর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে।
নতুন পরীক্ষায় কারা বসবে?
এই ঘটনার ফলে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক-শিক্ষিকার পরিমাণ বেশ খানিকটা কমে গেল। শীর্ষ আদালত এই উদ্দেশ্যে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছে, যাতে আগামী তিন মাসের মধ্যেই যত দ্রুত সম্ভব নিয়োগ প্রক্রিয়া সেরে ফেলতে হবে রাজ্যকে। নয়া নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ২০১৬ প্যানেলের যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের জন্য নতুন করে ছাড়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বর্তমানে কি কি চাকরির ফর্ম ফিলাপ চলছে একনজরে দেখে নিন
সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে হাইকোর্টের রায় মেনে নিয়ে মানবতার বিচারে ক্যান্সার আক্রান্ত সোমা দাসের চাকরি বহাল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে অন্যান্য বিশেষভাবে সক্ষম প্রার্থীদের জন্য এই ধরনের সুযোগ দিচ্ছে না সুপ্রিম কোর্ট। তবে পরবর্তী নিয়োগের সময় বিশেষভাবে সক্ষম চাকরিপ্রার্থীদের বয়সের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। এছাড়াও, কতদিন না নতুন নিয়োগ হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত বেতন দিতে হবে বিশেষভাবে সক্ষম কর্মীদের।
পুরনো পদে ফিরে যাওয়ার সুযোগ:
আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যে সকল প্রার্থীরা সৎ উপায় অবলম্বন করে নিযুক্ত হয়েছিলেন, তারা যদি অতীতে সরকারের কোন দপ্তরের কর্মী হয়ে থাকেন, তাহলে তারা সেই পদে ফিরে যাওয়ার আবেদন জানাতে পারেন। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াও তিন মাসের মধ্যেই সেরে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে পুরনো চাকরি ছাড়া এবং নতুনভাবে সেই চাকরিতে জয়েন করার মাঝের সময়কালকে ‘ব্রেক ইন সার্ভিস’ বলে বিবেচনা করা যাবে না। তবে এই বিষয়ে অযোগ্য এবং দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত প্রার্থীদের কোনরকম সুযোগ দেওয়ার বিপক্ষে শীর্ষ আদালত।