স্বপ্নপূরণের জন্য বহু কঠিন পথ পেরোতে হয় মানুষকে। করতে হয় বহু স্বার্থত্যাগ। আজ এমন একজনের কথা বলব যিনি কেবল স্বপ্ন সফলের সাক্ষী নন, বরং অন্যের সফলতা প্রাপ্তির কারিগর। মাত্র একুশ বছর বয়সে তিনি একটি গোটা গ্রামকে দত্তক নেন। তরুণ এই আইএএস অফিসার এরপর নানান কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একসময় তিনি দেশের বহু IAS, IPS অফিসারকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।
তরুণ আইএএস অফিসার নবীনের কর্মজীবন শুরু হয়েছিল গাজীপুর জেলার বীরপুর গ্রাম থেকে। তাঁর লক্ষ্য ছিল সমাজে শিক্ষার মান উন্নয়ন করা। আর সেই উদ্দেশ্য পূরণের জন্য নকশাল অধ্যুষিত একটি গ্রামে বেশ কিছুদিন বসবাস করেন তিনি। মাত্র একুশ বছর বয়সে একটি গোটা গ্রামকে দত্তক নিয়ে নেন নবীন। শুরু করেন নানান সমাজ কল্যাণ মূলক কর্মসূচি। পড়াশোনা চলাকালীনই সমাজের উন্নয়ন নিয়ে ভাবনাচিন্তা করতেন নবীন। বি.টেক পড়ার সময় থেকেই এই সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। গ্রামে কাজ করার সময় নবীন বাসিন্দাদের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের বিষয়ে সচেতন করতেন। গ্রামীণ যুবকদের উন্নতি স্বার্থে বেশ কিছু কর্মসূচিও করেছিলেন তিনি। ২০১৫ সালে নবীন গোরখপুরের তৎকালীন ডিএম, আইএএস রঞ্জন কুমারের নির্দেশনায় গোরখপুর জেলার গ্রামীণ এলাকার যুবকদের জন্য গ্রামীণ যুব নেতৃত্ব কর্মসূচি গ্রহণ করেন।
আরও পড়ুনঃ কোচিংয়ের সাহায্য ছাড়াই UPSC পাশ কস্তুরী
তরুণ এই আইএএস অফিসারের অন্যতম গুণ ছিল প্রশিক্ষণ প্রদান। ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো তথাকথিত ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও এই ফিল্ডে যথেষ্ঠ দক্ষ ছিলেন তিনি। বহু আধাসামরিক বাহিনী, প্রশাসনিক অফিসার, পুলিশ, বিচারকদের ব্যবস্থাপনা বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ দেন। পরবর্তী তে নবীন উত্তরপ্রদেশের চান্দৌলি জেলার সরকারি স্কুলে শিক্ষকদের সময়মত হাজিরা নিশ্চিত করতে “অ্যাটেন্ডেন্স উইথ সেলফি” প্রোগ্রাম চালু করেন। যা যথেষ্ঠ জনপ্রিয় হয় সমাজে। তাঁর এই অসাধারণ দক্ষতা প্রশংসিত হয় বিভিন্ন মহলে। বর্তমানে তিনি বহু রাজ্যের সরকারি কমিটির সদস্য যেখানে ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ দেন তিনি।